রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন
ঘূর্ণিঝড় আনা মাদাগাস্কারে আঘাত হানার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় আরেকটি ঘূর্ণিঝড় বাতসিরাইয়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই দ্বীপদেশটি। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সাথে সাথে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে মাদাগাস্কারের ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর এক জরুরি বুলেটিনে ১০ জন নিহত হওয়ার কথা জানায়। এছাড়াও দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বহু ভবন ধস, অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ার খবরও জানানো হয় এতে।
আর ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে হওয়া ভারি বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের কর্মকর্তারা।

দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান পূর্ব উপকূলের নোসি ভারিকা শহরের প্রায় ৯৫ শতাংশ ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এসময় ‘যেন এইমাত্র আমাদের এখানে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়াও বন্যার কারণে উপদ্রুত অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার রাতে ঘূর্ণিঝড় বাতসিরাই ঘণ্টায় ১৬৫ কিলোমিটার বেগে প্রবল বৃষ্টি নিয়ে মাদাগাস্কারের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ে।
দেড় লাখ মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করতে পারে ঘূর্ণিঝড় বাতসিরাই, এমন আশঙ্কাও জানায় তারা।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত রেডিওর বরাতে জানা গেছে, রাজধানী আন্তানানারিভো থেকে প্রায় ৪৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে আমবালাভাও শহরে ঘরবাড়ি ধসে মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজনের।

রাজধানী থেকে ৪২০ কিলোমিটার দক্ষিণে ফিয়ানারান্তসোয়া শহরের বাসিন্দা নিরিনা রাহাইনগোসোয়া টেলিফোনে রয়টার্সকে জানান, আমরা শুধু ধ্বংস দেখছি- উপড়ে পড়া গাছ, পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি, ঝড়ে উড়ে যাওয়া ছাদ, পানিতে ডুবে আছে পুরো শহর।
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মানানজারিতে বাস্তুচ্যুত লোকজনকে আশ্রয় দিতে স্কুল ও গির্জাগুলো প্রস্তুত করা হলেও ঝড়ে ভেঙে পড়েছে এসব স্থাপনার ছাদও, জানিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই তিন কোটি জনসংখ্যার এই দ্বীপে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় আনার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষয়ক্ষতিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে নতুন করে আঘাত হানা বাতসিরাই।
ঘূর্ণিঝড় আনার তাণ্ডবে দ্বীপদেশটিতে ৫৫ জন নিহত ও এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।